Teachers’ Day l Celebrated for all the teachers

আজ ৫ ই সেপ্টেম্বর-শিক্ষক দিবস এবং আদর্শ শিক্ষক সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন এর ১৩১ তম জন্ম দিন উপলক্ষ্যে সকল শিক্ষকগণ কে জানাই ভালোবাসা আর ভক্তিভরা প্রণাম এবং বিনম্র শ্রদ্ধা।

ড: সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন-ই প্রথম তার জন্মদিন উপলক্ষে তার ছাত্রদের বলেন যে তার জন্মদিন সমস্ত শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে পালন করা হোক,,,সেই থেকে তারই জন্মদিনে সমগ্র বিশ্বে এই শিক্ষক দিবস শুরু হয়,,,,আজকের এই দিনে সেই মহান ব্যক্তিটি সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক…..

জন্ম:-৫ইসেপ্টেম্বর, ১৮৮৮–তিরুত্তানি,তামিলনাড়ু,দক্ষিণ ভারত।

১৯৬২-এ প্রথম বার ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিন শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়েছিল। তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি ছিলেন, উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের দূত ছিলেন, কিন্তু সর্বোপরি তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক এবং দার্শনিক।

১) বর্তমান তামিলনাড়ু এবং তৎকালীন মাদ্রাজ প্রদেশের তিরুতান্নিতে এক গরিব ব্রাহ্মণ পরিবারে ১৮৮৮-এর ৫ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন রাধাকৃষ্ণন। ছেলে পূজারি হোক, এমনটাই চাইতেন তাঁর বাবা। বাবা কখনোই চাননি ছেলে ইংরেজি পড়ুক। কিন্তু রাধাকৃষ্ণনের জেদে পরাজিত হন তাঁর বাবা। তিরুপতির একটি স্কুলে তাঁকে ভর্তি করা হয়।

মেধাবী ছাত্র হওয়ার ফলে, স্কুল জীবনে অসংখ্য স্কলারশিপ পেয়েছেন রাধাকৃষ্ণন। প্রথমে ভেলোরের ভুরহি কলেজে ভর্তি হলেও, পরে মাদ্রাজ ক্রিশ্চান কলেজে ভর্তি হন তিনি। তাঁর বিষয় ছিল দর্শন। কিন্তু দর্শন তাঁর প্রথম পছন্দের বিষয় ছিল না। বই কেনার টাকা ছিল না রাধাকৃষ্ণনের। কিন্তু সেই সময়েই একই কলেজ থেকে দর্শন নিয়ে স্নাতক হন তাঁর এক দাদা। দাদার বইয়ের জন্যই দর্শনকেই বেছে নেন তিনি।

বয়স যখন ২০, বেদান্ত দর্শন ওপর তাঁর গবেষণা প্রকাশিত হয়।

২) ১৯০৮-এ মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেন রাধাকৃষ্ণন। এর পড়ে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি কলেজ দিয়ে তাঁর অধ্যাপনা জীবন শুরু করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, মহীশুর বিশ্ববিদ্যালয়েও তাঁর অধ্যাপনার স্বাদ পায়। অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের ভূমিকাও পালন করেছেন তিনি।

৩) ছাত্রছাত্রীদের কাছে অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন রাধাকৃষ্ণন। মহীশুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনার উদ্দেশে যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নিচ্ছেন অধ্যাপক রাধাকৃষ্ণন, তখন তাঁর পড়ুয়ারা, ফুলসজ্জিত গাড়ির ব্যবস্থা করে, তাঁকে হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিল।

৪) বয়স যখন ১৬, দূর সম্পর্কের আত্মীয় শিবাকামুকে বিয়ে করেন তিনি। ১৯৫৬য় তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়।

৫) ১৯৫২-য় উপরাষ্ট্রপতি হন রাধাকৃষ্ণন। কিন্তু তার আগে, অর্থাৎ ১৯৪৬-এ ইউনেস্কোর দূত হয়েছিলেন তিনি। এর পর সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের দূতও ছিলেন তিনি।

১৯৬২-তে ভারতের রাষ্ট্রপতি হন রাধাকৃষ্ণন। নোবেলজয়ী ব্রিটিশ দার্শনিক, বারট্রান্ড রাসেল বলেছিলেন, “ডঃ রাধাকৃষ্ণন ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়া মানে দর্শন বিষয়টার কাছে একটা আলাদা সম্মানের। আমিও নিজের দার্শনিক, তাই আমিও গর্বিত।”

৬) রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর পড়ুয়াদের দাবি ছিল তাঁর জন্মদিনটা যেন বিশেষ ভাবে উদযাপন করা হয়। রাধাকৃষ্ণন বলেছিলেন, “জন্মদিন উদযাপন না করে সেই দিনটা যদি শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়, তা হলে আমি কৃতজ্ঞ থাকবে।” সেই থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ভারতের শিক্ষক দিবস।

৭) ১৯৫৭-য় রাষ্ট্রপতি হিসেবে ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদের কার্যকাল শেষ হওয়ার পর, রাধাকৃষ্ণনকেই রাষ্ট্রপতি করতে চেয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। কিন্তু মৌলানা আজাদের তীব্র বিরোধিতায় সেটা হয়নি। ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ আরও পাঁচ বছর থাকেন। ১৯৬২-তে নেহরুর সক্রিয়তায় রাষ্ট্রপতি হন রাধাকৃষ্ণন।

৮) তাঁর রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালে দু’টো যুদ্ধে যেতে হয় ভারতকে। প্রথম ছিল ১৯৬২-এর চিন যুদ্ধ। রাষ্ট্রপতির আসনে বসার কয়েক মাসের মধ্যেই সেই যুদ্ধ। এর তিন বছর পরে ছিল পাকিস্তান যুদ্ধ।

১৯৬৫-এর ২৫ জুন, জাতির উদ্দেশে ভাষণের সময়ে, রাধাকৃষ্ণন বলেন, “পাকিস্তান ভারতকে হয় খুব দুর্বল ভেবেছে, নয়তো খুব ভীত ভেবেছে। ভারত সাধারণত অস্ত্র হাতে তোলে না, কিন্তু আমাদের মনে হয়েছে পাকিস্তানকে একটা শিক্ষা দেওয়া দরকার। পাকিস্তান যেটা ভেবেছিল, তার বিপরীতটাই হল।”

১৯৬৪ সালে নেহরুর মৃত্যু হয়, এর ঠিক দু’বছর পরেই তাশকেন্তে আকস্মিক মৃত্যু হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীর।

৯) তাঁর জীবনীতে, বাবার ব্যাপারে রাধাকৃষ্ণনের ছেলে সর্বপল্লী গোপাল বলেছেন, “কখনও কোনো নিম্নমানের কাজ করেননি তিনি। কখনও কোনো নিম্নমানের চিন্তাও এসেছিল বলে মনে হয় না।”

১০) ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকায় প্রকাশিত একটি লেখায় প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী কে নটবর সিংহ বলেছিলেন, রাধাকৃষ্ণনের মুখে নিজের বিরোধিতা মেনে নিতে পারেননি ইন্দিরা গান্ধী। তাই ১৯৬৭-তে দ্বিতীয় বার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সুযোগ হারান রাধাকৃষ্ণন। নটবরের কথায়, “এটা রাধাকৃষ্ণনের কাছে বিশাল আঘাত ছিল।”

পুরস্কার:-১৯৩১ সালে তাঁকে British knighthood-এ সম্মানিত করা হয়। ১৯৫৪তে ভারতরত্ন উপাধি পান।

শিক্ষক দিবসের তাৎপর্য:-শিক্ষক আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষক ছাড়া যোগ্য সমাজ ও উজ্জ্বল জীবন কল্পনাতীত। প্রতি বছর ৫ই সেপটেম্বর আমরা শিক্ষক দিবস পালন করি এবং আজকের দিনেই ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি একজন শিক্ষক ছিলেন। ১৯৬২ সালে ছাত্রদের অনুরোধে তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি হন। তিনি ছিলেন একজন বিদ্বান ব্যক্তি ও উপদেষ্টা। ভারতবর্ষের সকল বিদ্যার্থী তাকে সম্মান জানানোর জন্য আজকের দিনে শিক্ষক দিবস পালন করে থাকে।

১৯৭৫-এর ১৭ এপ্রিল পরলোকের উদ্দেশে যাত্রা করেন এই মহান ব্যক্তিটি।

(সংগৃহীত)

ধন্যবাদান্তে:- success বাংলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *